ঘরে লাশ ফেলে পালালেন স্বজনরা, বৃদ্ধের জানাজা পড়ালেন এসি ল্যান্ড - pratidinkhobor24.com

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, 9 June 2020

ঘরে লাশ ফেলে পালালেন স্বজনরা, বৃদ্ধের জানাজা পড়ালেন এসি ল্যান্ড



নিউজ ডেস্ক  : পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে সোহরাব হোসেন হাওলাদার (৬০) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তিনি গত শনিবার ঢাকা থেকে সর্দি-জ্বর নিয়ে বাড়িতে এসে গতকাল রোববার রাতে মারা যান।

এদিকে সোহরাবের মৃত্যুর পর করোনার ভয়ে পরিবারের স্বজনরা তার লাশ ঘরে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে রাতেই ওই বৃদ্ধের লাশ দাফন করে। লাশের গোসল ও জানাজা পড়ান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তৌহিদুল ইসলাম।

তিন সন্তানের জনক সোহরাব হোসেন ঢাকায় সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করতেন। তিনি উপজেলার রাজপাশা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

হাসপাতাল ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, রাজপাশা গ্রামের সোহরাব হোসেন ঢাকা থেকে গত শনিবার সর্দি-জ্বর নিয়ে বাড়িতে আসেন। ওই দিনই তিনি গুরুতর অসুস্থ বোধ করলে স্বজনরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। রোববাব রাতে তিনি হঠাৎ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পরে তিনি করোনা আক্রান্ত এমন সন্দেহে পরিবারের স্বজনরা লাশ ঘরে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। সেই সঙ্গে বৃদ্ধের প্রতিবেশী আপন দুই ভাইও পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় স্থানীয়রা উপজেলা ও থানা প্রশাসনকে খবর দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল আলম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এইচ এম জহিরুল ইসলাম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তৌহিদুল ইসলামসহ থানা পুলিশের একটি টিম রাতেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।

লাশ উদ্ধার করে মেডিকেল টিম সোহরাবের করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করে। এ সময় প্রশাসন পরিবারের স্বজন কাউকে না পেয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিকুর রহমান টুলুর সহায়তায় ওই বৃদ্ধের পারিবারিক কবরস্থানে তার কবর খোড়া হয়। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তৌহিদুল ইসলাম নিজেই লাশের গোসল ও জানাজার দায়িত্ব পালন করেন। পরে রোববার রাত ১২টার দিকে ওই বৃদ্ধের লাশ দাফন সম্পন্ন হয়।

এ বিষয়ে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘করোনার সংক্রমণের ভয়ে পরিবারের স্বজনরা লাশ ফেলে পালিয়েছে। উপজেলা প্রশাসন যথাযথ নিয়ম মেনে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করেছে। আমি লাশের গোসল ও জানাজা পড়িয়েছি। কিন্তু দুর্ভাগ্য স্বজনরা কেউ কাছে আসেননি।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এইচ এম জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ওই ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত কিনা তা এখনো আমরা নিশ্চিত নই। তার নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।’

ভাণ্ডারিয়া উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মৃত ওই ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত কিনা তা নিশ্চিত না। তবে করোনার ভয়ে পরিবারের স্বজনরা তার লাশ ফেলে পালিয়েছেন, এটা দুঃখজনক। খবর পেয়ে প্রশাসন গিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গভীর রাতে লাশ দাফন করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসন খবর না পেলে আজও হয়তো হতভাগ্য ওই বৃদ্ধের লাশ ঘরে পড়ে থাকত।’

নিউজটি শেয়ার করুন...

No comments:

Post a comment

Post Bottom Ad

Pages