২৭ গ্রামের মানুষের এক মাত্র ভরসা নরবরে বাঁশের সাঁকো - pratidinkhobor24.com

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad




Thursday, 27 February 2020

২৭ গ্রামের মানুষের এক মাত্র ভরসা নরবরে বাঁশের সাঁকো


মোঃ ইমরান হোসেন (আপন) চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) 
সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের লক্ষাদিক মানুষের যাতায়াতের একমাত্র পাকা সড়কের উপড় নির্মিত বেইলী ব্রীজটি গত বর্ষায় ভেঙ্গে পরে থাকায় ব্যবস্যায়ী, শিক্ষার্থী ও এলাকার জন সাধারনের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ২৭টি গ্রামের লক্ষাধীক মানুষের চলাচলের একমাত্র সড়ক খাষপুখুরিয়ার মোকার ভাঙ্গায় নরবরে বাঁশের সাকোটি এখন এলাকাবাসির মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।



 
দীর্ঘদিন ধরে সংষ্কারের অভাবে সেতুটি এখন আর এলাকাবাসির কোন কাজেই আসছে না। গত বর্ষায় বেইলী ব্রীজটি ভেঙ্গে যাওয়ায় বিকল্প পারাপাড়ের জন্য নৌকা ব্যবহার করতে হয়। বর্ষার শেষে যাতায়াতের জন্য একটি বাশের সাকো নির্মান করা হলেও তা একখন নরবরে অবস্থা। বাশঁ-খুটি নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে এ সড়ক দিয়ে যানবহণ তো দূরের কথা মানুষজনই চলাচল করতে হিমশিম খাচ্ছে। ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘের এ সড়কটির উপর নির্মিত বাশেঁর সাকোটি নড়বড়ে হয়ে যাওয়ায় এ সড়ক দিয়ে কোন মালামাল পরিবহণ করা যায় না। জমি থেকে ফসল আনতে হয় মাথায় করে। এ ছাড়া ঘরবাড়ি ও সেনিটারি সামগ্রী পরিবহণ কষ্ট সাধ্য হওয়ায় অনেকের সামর্থ থাকলেও বাড়িতে ভাল ঘর ও সেনিটারিল্যাট্রিন তৈরী করতে পারে না। এ কারণে দক্ষিণ এলাকার পরিবেশ হুমকির মধ্য পড়েছে। শিশুদের নানা অসুখ বিসুখ লেগেই আছে। এখানে সেতুর অভাবে ৩টি ইউনিয়নের ২৭টি গ্রামের প্রায় লক্ষাধীক মানুষকে চরম কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। এখানে জরুরী ভিত্তিতে একটি কংক্রিট সেতু নির্মাণ খুবই জরুরী। একটি কংক্রিটের সেতু নির্মাণের জোরদাবী জানালে ৫ কোটি টাকার সেতু নির্মান টেন্ডার হয়, নদী ভাঙ্গনের ভয়ে প্রকল্পটি স্থগিত হয়।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি মুজিব শতবর্ষে মাদক বিরোধী ও আইন শৃংখলা সভায় বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল কাহহার সিদ্দিকী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আপনাদের কাজে আমি আর কোন বক্তব্য ও দাবী জানাতে চাইনা। কারন দক্ষিণ অঞ্চলের বেহাল রাস্তা ও ব্রীজ নিয়ে অনেক বার দাবী জানিয়েছি, কিন্তু কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। এলাকাবাসির এই দূর্ভোগ লাঘবে ভাঙ্গা ব্রীজ ও চরনাকালিয়া পূর্বপাড়া ব্রীজটি জরুরী ভিত্তিতে কংক্রিটের সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।

খাষপুকুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সরকার জানান, এখানে একটি কংক্রিটের সেতু ছিল তা ভেঙ্গে যায়। সেখানে মাটি ভরাট করে সড়ক নির্মাণ করা হয়ে ছিল। ২০১৭ সালের বন্যায় সড়কটি আবার ভেঙ্গে গেলে সেখানে একটি বেইলী ব্রিজ নির্মান করা হয়। তাও গত বর্ষায় যমুনার স্রোতে ভেসে যায় । পথচারি ও শিক্ষার্থীদের দিকে তাকিয়ে ওখানে টিআর প্রকল্পের অর্থ এবং এলাকাবাসির স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মান করা বাশের সাকো দিয়ে লোকজন চলাচল করলেও যান পারাপাড় বন্ধ রয়েছে। পাশে পরে আছে সরকারের সেই বেইলী ব্রিজটি। উদ্বারের লক্ষন নেই। বর্তমানে এখানে একটি কংক্রিটের সেতু দাবী জানিয়েছি।

চৌহালী উপজেলা প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন জানান, এখানে একটি ব্রিজের জন্য বরাদ্দ ছিল, নদী ভাঙ্গনের কারণে প্রকল্পটি বাতিল হয়, তবে বিষয়টি আমাদের মাথায় আছে। কিন্তু সেতু নির্মাণে কোন বরাদ্দ না থাকায় সেখানে সেতু নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না। তারপরেও একটি প্রস্তাব পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রস্তাবটি পাশ হলেই ওখানে সেতু নির্মাণ করা হবে।

চৌহালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেওয়ান মওদুদ আহামেদ বলেন, উপজেলার দক্ষিণাঅঞ্চল বাসির জন্য গুরুত্বপুর্ণ এ সড়কের বেইলী ব্রিজটি ভেঙ্গে পরে আছে, বেইলী ব্রিজটি নতুন করে নির্মান অথবা একটি কংক্রিট সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে। জনগনের সুবিধার্থে প্রস্তুাবটি পাঠাব, তবে উপরের নির্দেশনা পেলেই আমরা কাজ করব।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages