পিরোজপুরে স্বামীকে মারধরের ঘটনায় মামলা করায় স্ত্রীকে হুমকি, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন - pratidinkhobor24.com

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Monday, 23 November 2020

পিরোজপুরে স্বামীকে মারধরের ঘটনায় মামলা করায় স্ত্রীকে হুমকি, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

  
পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলাধীন সদর ইউনিয়নের দাসেরকাঠি গ্রামের মোঃ মিজানুর রহমানকে  (ওয়াকফে স্টেটের জমির কেয়ারটেকার) মারধরের ঘটনায় ওয়াকফে স্টেটের নায়েবে আমির পিরোজপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলা
তুলে নিতে বিবাদীরা মিজানের স্ত্রীকে দেখে নেয়ার হুমকিতে মিজানের স্ত্রী পিরোজপুর প্রেস ক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন।

গত ২১ নভেম্বর রবিবার মিজানুর রহমানের স্ত্রী নুপুর বেগম পিরোজপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় নুপুর বেগম বলেন, তার শশুর মৃত হাবিবুর রহমান হাওলাদার দীর্ঘ ৪০ বছর যাবৎ মোজার উদ্দীন খান এর ওয়াকফে স্টেটের জমি দেখাশুনা করার জন্য কেয়ারটেকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তার মৃত্যুর পর উক্ত সম্পত্তির মোতাল্লি মামুন খান আমার স্বামী মিজানুর রহমানকে কেয়ারটেকারের দায়িত্ব দিলে আমরা উক্ত সম্পত্তি দেখাশুনা করে আসছি। আমার শশুর ও স্বামী কেয়ারটেকারের দায়িত্ব পালন করায় এলাকার সন্ত্রাসীমনা একটি বাহিনী ওয়াকফে সম্পতি লুটতরাজ করতে না পারিয়া আমাদের প্রতি অনেকদিন যাবৎ আমার স্বামী সহ আমাদের খুন জখম করার পরিকল্পনাকরিতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ০৬ অক্টোবর ২০২০ তাখির মোঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৯টার সময় উজিয়াল বেইলি ব্রীজ সংলগ্ন নবির হোসেনের দোকানে সওদা আনতে গেলে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীমনা স্থানীয় সুমন খান, মিরাজ মীর, মোঃ রাতুল ও সায়েম সহ অজ্ঞাতনামা আরো ২/৩ জন মিলে চাঁদা দাবী করে। আমার স্বামী চাঁদা না দেয়ায় দেশীয় অস্ত্র রড, লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাথরি মারধর শুরু করে। একপর্যায় মিজানের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগীতায় মিজানকে কাউখালি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে রেফার করে। 

উক্ত ঘটনায় ওয়াকফে স্টেটের নায়েবে আমীর মো: মেহেদীহাসান খান অভি বাদী হয়ে গত ১০ অক্টোবর ২০২০ তারিখে পিরোজপুর জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট আদালতে উপরে উল্লেখিত সন্ত্রাসীমনা ব্যক্তি সহ অজ্ঞাত আরো ২/৩ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের করার পর বিজ্ঞ আদালত মামলাটি এজাহার ভুক্ত করার জন্য কাউখালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিলেও অজ্ঞাত কারনে কাউখালি থানার ওসি দীর্ঘদিন পরে অর্থাৎ গত ১৮ অক্টোবর মামলাটি রেকর্ডভুক্ত করেন। মামলা রেকর্ড হওয়ার প্রায় একমাস অতিবাহিত হলেও অজ্ঞাত কারনে মামলায় অন্তর্ভুক্ত আসামীরা পুলিশের ধরাছোয়ার বাহিরে থেকে যায়। গত ১৫ নভেম্বর ওয়াকফে স্টেটের আওতাধীন মসজিদ সংলগ্ন বাগানের সুপারি গাছ থেকে প্রায় ১০০ কুড়ি (দেশীয় গননা) সুপারি নিয়ে যায়। বিষয়টি মামলার বাদী মেহেদী হাসানকে জানালে গত ১৬ নভেম্বর স্বশরীরে হাজির হয়ে পিরোজপুর জেলা পুলিশ সুপারের নিকট একটি আবেদন করেন। আবেদনে করার তিনদিন পর মামলার তিন নম্বর আসামীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একজন গ্রেফতার হলেও বাকিরা বাহিরে থাকায় আমাকে বিভিন্ন মাধ্যমে আমাদেরকে বাড়ী ছেড়ে যাওয়া সহ প্রান নাশের হুমকি দিচ্ছে। বিষয়টি জেলার সকল সাংবাদিকগন ও প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষন করে আসামীদের গ্রেফতার পূর্বক আইনের আওতায় এনে ন্যায় বিচারের দাবী জানাান।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages